কুমিল্লা

কুমিল্লায় ১৫ জন শিক্ষক বেতন পান না ২১ মাস !


প্রকাশিত : শনিবার, ২০২২ এপ্রিল ১৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
0
বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল কলেজের ১৫ জন শিক্ষক ২১ মাস ধরে বেতন–ভাতা পাচ্ছেন না। এতে পরিবার নিয়ে বেপর্যায় পড়েছেন তাঁরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই তাঁরা বেতন-ভাতা পেতে চান।   কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে কুমিল্লা নগরের শাকতলা এলাকায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অর্থায়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন–ভাতা দেওয়া হতো। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এটি জাতীয়করণ হয়। তারপর সরকার থেকে বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে এ কলেজে ১১০০ শিক্ষার্থী এবং ৩৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু কলেজের ১৫ জন শিক্ষক অতিরিক্ত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তত্কালীন অধ্যক্ষ এ কে এম এমদাদুল হক। এ অবস্থায় ১৫ শিক্ষক ২০২০ সালের মে মাস থেকে (২০২১ সালের মে, জুন, জুলাই ব্যতীত) বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তখন থেকেই অধ্যক্ষের সঙ্গে এই ১৫ শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই অবস্থায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ কে এম এমদাদুল হককে এই কলেজ থেকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সরকারি হাজী এ বি কলেজে বদলি করা হয়। এরপর ৫ এপ্রিল এ কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন মোহাম্মদ আবুল হোসেন। তারপরও মিলছে না বেতন–ভাতা।   এতে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়ে যান শিক্ষকেরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই তাঁরা বেতন-ভাতা পেতে চান। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক নার্গিস আফরোজ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক লুত্ফুন নাহার বলেন, ‘২১ মাস ধরে বেতন–ভাতা পাচ্ছি না। আগের অধ্যক্ষ বেতন আটকে দিয়ে যান।’   পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ সোহেল কবীর বলেন, ‘জাতীয়করণকৃত কলেজশিক্ষক আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০ অনুযায়ী আমরা বেতন তুলেছি। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশের ১২টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের একটি কলেজও আমরা যে বিধিমালায় বেতন–ভাতা নিয়েছি, তাঁরাও নিয়েছে। অথচ তাদের কোনো বেতন আটকানো হয়নি।’   গণিত বিভাগের প্রভাষক কাজী মোহাম্মদ ফারুক বললেন, ‘আগের অধ্যক্ষ শিক্ষকবান্ধব ছিলেন না। ওনার কারণে আমরা ১৯ মাস বেতন পাচ্ছি না।’   কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম এমদাদুল হক বলেছেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৫জন শিক্ষককে বেতন নেওয়ায় আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’   কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করি একটি সমাধান শিগগিরই হবে। শিক্ষক পড়াবেন, পরীক্ষা নেবেন, দাপ্তরিক কাজ করবেন, কিন্তু বেতন পাবেন না, এটা হতে পারে না। আমি এ কলেজে যোগ দিয়েছি আট দিন হলো।’   জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মো. আবুল বাসার বলেন, শিক্ষকদের বেতন–ভাতা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তোলন করা অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


মন্তব্য করুন

Video