জেলা সংবাদ

পেঁয়াজের কেজি মাত্র ৮ টাকা!


প্রকাশিত : শনিবার, ২০২২ এপ্রিল ১৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
0
বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক: কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় পেঁয়াজের বাজারমূল্য কয়েকগুণ কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। তাই অনেক কৃষক বিক্রি না করে বাজার থেকে পেঁয়াজ ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন।   উপজেলার পান্টি ডিগ্রি কলেজ মাঠে গতকাল শুক্রবার সকালে সাপ্তাহিক হাট বসে। সেখানে সরেজমিনে সাংবাদিকদের কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে ২০-৩০ হাজার টাকা। আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৫০-৮০০ টাকা মণ। এতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।   কৃষকদের চাওয়া, দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ হয় তা দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই সরকারের উচিত ভারতের পেঁয়াজ আমদানি না করা।   হাটে থাকা কৃষক, ব্যবসায়ী ও হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ বছর প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ পড়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। আর বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৮-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা উৎপাদন খরচের তুলনায় কয়েকগুণ কম। দাম কম থাকায় অনেক কৃষক পেঁয়াজ বিক্রি না করে ফিরে গেছেন।   সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায়, কেনাবেচা প্রায় শেষ। ব্যবসায়ীরা ক্রয় করা পেঁয়াজ মজুত ও বিক্রয়স্থলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করছেন। কিছু কৃষক ভালো দামের আশায় পেঁয়াজ নিয়ে এখনো বসে আছেন। পান্টি এলাকার বিভিন্ন সড়কে পেঁয়াজ বিক্রি না করে কৃষকরা পেঁয়াজ ফেরত নেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।   কৃষক আমজাদ উদ্দিন বলেছেন, ১২ মণ পেঁয়াজ বিক্রির জন্য হাটে এনেছিলাম। কিন্তু দাম নাই পেঁয়াজের। তাই না বেঁচে ফেরত নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ হয়, এতেই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই সরকারের উচিত ভারতের এলসি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা।   স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মতিয়ার রহমান বলেছেন, ৪৫০ টাকা মণ পেঁয়াজ কিনেছি। আকার ও মানভেদে প্রতি মণ ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা পড়েছে। মালগুলো আজই ট্রাকে করে কুমিল্লা নেওয়া হবে।   পান্টি সাপ্তাহিক পেঁয়াজ হাটের ইজারাদার এইচ এম আব্দুল্লাহ টিপু বলেছেন, আজ হাটে ৬-৭ হাজার টন পেঁয়াজের আমদানি হয়েছিল। কিন্তু দাম কম থাকায় অসংখ্য কৃষক বিক্রি না করে ফেরত নিয়ে যান। প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৮-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।   উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেছেন, এ বছর উপজেলায় ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। এবার প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের ২৩-২৫ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পেঁয়াজের বাজারদর উৎপাদনের খরচের অনেক কম। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


মন্তব্য করুন

Video