ধর্ম

ধন-সম্পদ ও কল্যাণ লাভের আমল

বর্তমান প্রতিদিন bartoman pratidin
প্রকাশিত : সোমবার, ২০২২ মে ০৯, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
ধন-সম্পদ ও কল্যাণ লাভের আমল

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

সবাই চায় যে তার জীবনটা কল্যাণময় ও বরকতময় হউক। এর জন্য মানুষ নিজের মেধা, শ্রম সব কিছুই ব্যয় করে দেয়।  প্রকৃত কল্যাণময় জীবন তারাই পায়, মহান আল্লাহ্ যাদের দান করেন।


এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলো মানুষের জীবনকে কল্যাণময় করে তুলে—


ঈমান আনা : 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের শুভ সংবাদ দিন যে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫)


তাওয়াক্কুল করা : 

অর্থাৎ আল্লাহর ওপর ভরসা করা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তাওয়াক্কুল করে মহান আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। ’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তাআলার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয় সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেওয়া হতো। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৪৪)


তাকওয়া অবলম্বন করা :

মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যদি সে সব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তাহলে অবশ্যই আমরা তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)


নিয়ামতের শুকরিয়া করা :

মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরো বেশি দেব, আর অকৃতজ্ঞ হলে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি তো কঠোর। (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)


আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা : 

আনাস (রা.) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বীয় রিজিক বৃদ্ধি ও দীর্ঘজীবী হতে চায় সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৯৩)


ইস্তেগফার করা : 

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল, তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন এবং তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা। ’ (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০-১২)


সদকা করা :

 পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৬)


নিজের চেয়ে কম সম্পদশালীদের দেখা : 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা তোমাদের চেয়ে কম সম্পদশালী মানুষের প্রতি (পার্থিব ব্যাপারে) দৃষ্টি দিয়ো, তোমাদের চেয়ে ধনশালী মানুষের দিকে নয়। এতে তোমাদের আল্লাহ তাআলার দেওয়া নিয়ামত নগণ্য মনে হবে না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৩)


ঘরে প্রবেশের সময় সালাম করা :

 আনাস (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, হে বৎস, তুমি যখন তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাও, তখন সালাম দিয়ো। তাতে তোমার ও তোমার পরিবার-পরিজনের কল্যাণ হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৯৮)


অল্পে তুষ্ট হওয়া :

 আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘ধনের আধিক্য হলে ধনী হয় না, অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৪৬)


অন্যের জন্য দোয়া করা :

 আবু দারদা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেন, কোনো মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে একজন ফেরেশতা তার জবাবে বলে, ‘আর তোমার জন্যও অনুরূপ। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৮২০)


আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


মন্তব্য করুন

Video