ফিচার

গ্রীষ্মের দক্ষিণা হাওয়ায় সোনা ঝড়া সোনালু ফুল

বর্তমান প্রতিদিন bartoman pratidin
প্রকাশিত : বুধবার, ২০২২ মে ২৫, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
গ্রীষ্মের দক্ষিণা হাওয়ায় সোনা ঝড়া সোনালু ফুল

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

সুজলা-সুফলা শস্য - শ‍্যামলা বাংলাদেশ অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা-নীকেতন। এদেশের ছয়টি ঋতু প্রাকৃতিক নিয়মে আপনাপন বিচিত্র রূপ আর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়। এদের আবির্ভাবে বাংলাদেশ অপরূপ প্রাকৃতিক নীলা- বৈচিত্র্যে মেতে, নৈসর্গিক দৃশ্যের পট পরবর্তিত হয়। এদেশের ঋতুবৈচিত্র্য যুগে যুগে কবিদের আবেগ ও সৌন্দর্য চেতনাকে আন্দোলিত করেছে। তাঁরা তাঁদের লেখনীর নিপুন আঁচড়ে এঁকেছেন রূপসী বাংলার সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যে ঋলমল এক প্রাণবন্ত ছবি।


গ্রামবাংলার বুকে প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম আবির্ভূত হয় প্রখর সূর্যকিরণের দাবদাহ নিয়ে। গ্রীষ্মের প্রকৃত মূর্তি শুষ্ক, কঠোর ও রুক্ষ। কাঠফাটা রোদে চারদিক ঝাঁ ঝাঁ করে। মাঠ- ঘাট ফেটে চৌচির। সূর্যের প্রখর তাপে সব যেন ঝলসে যায়। এ ঋতুতেই বাংলার রকমারি রসাল ফল ঝুলতে থাকে গাছের শাখায় শাখায়। আম, জাম, লিচু ও কাঁঠালের প্রাচুর্যে  ভরে যায় গ্রামবাংলার আনাচ- কানাচ।


সাধারণত প্রচন্ড গরম আর কাঠফাটা রোদের জন্য গ্রীম্ষ ঋতুর খ‍্যাতি থাকলেও দৃষ্টিনন্দন ফুলে ফুলে প্রকৃতি সাজতেও গ্রীম্ষ ঋতুর জুড়ি নেই। প্রকৃতিতে এখন গ্রীম্ষ। তবুও চারদিকে দৃষ্টিনন্দন ফুলের জন্য গ্রীম্ষেই যেন স্বর্গীয় রুপ দিয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃতিতে।


গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে অপরূপ সাজে সেজেছে হলুদ সোনালু বা বাঁদরলাঠি ফুল। সোনালী রংঙের বাহার থেকেই 'সোনালু' নামে নামকরণ। সোনালু আমাদের দেশের গ্রীষ্মের অতিপরিচিত দৃষ্টিনন্দন ৫পাপঁড়ির থোকাযুক্ত হলুদ রঙের ফুল ও মাঝে পরাগ দ-অবস্থিত। সোনালু ফুলের আদি নিবাস হিমালয় অঞ্চল ধরা হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার অঞ্চলজুড়ে রয়েছে এর বিস্তৃতি। 


সোনালু ঝরনার বৃক্ষ। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম দিয়েছিলেন অমলতাস। শীতে সমস্ত পাতা ঝড়ে গিয়ে গাছ থাকে পত্র শুন‍্য ও বসন্তের শেষে ফুল কলি ধরার পূর্বে গাছে নতুন পাতা গজায়। গ্রীষ্মে গাছের শাখা -প্রশাখা জুড়ে ঝুলন্ত মঞ্জুরিতে সোনালী হলুদ রংঙের ফুল ফোটে ও এর ব‍্যাপ্তি থাকে গ্রীষ্মকাল পুরো সময় জুড়ে।