বাণিজ্য

৫০ টাকায় কম্পিউটার বিক্রি করলো বিশ্ববিদ্যালয়!

বর্তমান প্রতিদিন bartoman pratidin
প্রকাশিত : রবিবার, ২০২২ মে ১৫, ১২:১২ অপরাহ্ন
৫০ টাকায় কম্পিউটার বিক্রি করলো বিশ্ববিদ্যালয়!

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্ধশত অব্যবহৃত পুরাতন কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন, প্রিন্টারসহ অনেক জিনিসপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে কম্পিউটারগুলি ৫০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর রুম পরিষ্কারের কথা বলে এস্টেট অফিস প্রধান (বর্তমান) টিপু সুলতান ও তার সহযোগী উকিল উদ্দীন ও সাবু এই সকল পুরাতন জিনিসপত্র বিক্রি করেন। বিক্রি করা জিনিসের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, মনিটর, ফটোকপি মেশিন, প্রিন্টার, লোহার পাইপ, জানালার গ্রিল ও অন্যান্য কাগজপত্র। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই এসব জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। প্রতিটি কম্পিউটার ৫০ টাকা এবং অন্যান্য জিনিস ওজনে বিক্রি করা হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এস্টেট অফিসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রায় একশ পুরাতন কম্পিউটার, ১০-১২টি ফটোকপি মেশিন ও প্রিন্টার, ১০ মণ রড, জানালার পুরাতন গ্রিল, পুরাতন ব্যবহারযোগ্য লোহার পাইপ ও প্রায় সাড়ে চারশ কেজি কাগজ বিক্রি করা হয়েছে। টিপু তার সহযোগী সাবু ও উকিলের সহযোগিতায় শুধু গেট পাস করে জিনিসগুলো বিক্রি করেছে।


এর আগেও টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে অফিসের জন্য নানান জিনিসপত্র ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় পতাকার অর্থ লোট-পাট শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়।


এ ব্যাপারে উকিল উদ্দীন বলেছেন,  আমি শুধু মাপামাপির সময় গেছিলাম। পরে চলে আসছি। আমি এসব কিছু জানি না।


বকুল হোসেন বলেছেন, আমাকে টিপু স্যার হিসাব রাখা এবং মাপ ঠিক আছে কি না এটা দেখার জন্য পাঠিয়েছিল। আমি হিসাবগুলো লিখেছি। তিনি প্রতিবেদককে ৪৩টি পুরাতন কম্পিউটার ৫০ টাকা করে, ৩টি বড় লোহার পাইপ (বাইশ থেকে তেইশ কেজি), সিপিইউ (ওজনে) এবং প্রায় ৪৫০ কেজি কাগজ বিক্রির হিসাব দেন।


অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরে টিপু সুলতান বলেন, অনুমোদনের বিষয়টা অনেক সময় মেইনটেইন করা হয় আবার অনেক সময় মৌখিক অনুমোদন নেওয়া হয়। বিক্রিত বেশির ভাগ জিনিসই কাগজ ছিল। রুমটা পরিষ্কার করার দরকার ছিল তাই ট্রেজারার স্যারের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছি।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন বলেছেন, স্টোর রুমের জিনিস বিক্রির বিষয়ে আমাকে জানালে আমি বলেছিলাম, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো জিনিস মুখে মুখে অনুমোদন হয় না। তারা কার অনুমোদন নিয়ে জিনিস বিক্রি করেছে, ছুটি শেষে দেখব।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


মন্তব্য করুন

Video