ব্রেকিং নিউজ

শীতকালে প্রতিদিন ছোলা খাওয়ার রয়েছে ৬ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

বর্তমান প্রতিদিন bartoman pratidin
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০২৩ জানুয়ারী ২৪, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

শীতকালে ফ্লু, ঠাণ্ডা জ্বর, নিউমোনিয়াসহ নানা ধরনের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরের ভালো যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। শীতকাল বছরের এমন একটা সময়, যখন সুস্থ থাকতে শরীরের অবশ্যই বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া উচিত। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়েটে সেসব খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণকে সহজেই পরাস্ত করতে পারে। এমন একটি খাবার হলো- ছোলা। আমাদের দেশে ছোলা সহজলভ্য খাবার।

রোজার মাসে ঘরে ঘরে ইফতারে ছোলা খাওয়া হয়। বছরের অন্য সময়টাতে ছোলার চাহিদা রোজার মাসের মতো বেশি না। ছোলা আমাদের শরীরে এমনকিছু চমকপ্রদ উপকার করে, এটা শীতকালেও নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। 

আজ জানবো ছোলার ৬ টি স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা-

হার্টের সুরক্ষা দেয়

হার্ট অ্যাটাকের মাস বলা হয় শীতকালকে। শীতকালে হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত ছোলা খেতে পারেন। প্রোটিন ও ফাইবার ছাড়াও ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল আছে, যেমন- ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও সেলেনিয়াম। গবেষণায় দেখা যায়, পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিকতা ম্যাগনেসিয়াম বজায় রাখে। সেলেনিয়াম প্রদাহ কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

ছোলার কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষমতা আছে। ছোলা খেলে শরীর বিউটাইরেট নামক শট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে, যা শরীর থেকে অসুস্থ ও মুমূর্ষু কোষ অপসারণে সাহায্য করে। এর ফলে ক্যানসার প্রতিরোধ হয়। এই খাবারে লাইকোপিন, বায়োচেনিন ও স্যাপোনিনও আছে। ডায়েটারি বায়োঅ্যাক্টিভ কম্পাউন্ডও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে

গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কোনো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর কেমন গতিতে রক্ত শর্করা বাড়ে তা নির্দেশ করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর হলো- ছোলার জিআই কম, যার স্কোর হলো ২৮। স্কোর ৫৫ বা এর কমকে লো জিআই ফুডস বলা হয়। এসব খাবার থেকে ধীরে ধীরে শর্করা নিঃসরিত হয়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়াবেটিক ডায়েটে ছোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

পেশী মেরামত করে

পেশী মেরামত, হরমোন কার্যক্রম ও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রোটিন প্রয়োজন হয়। যদি কেউ শরীরে প্রোটিন সরবরাহ বাড়াতে চান, তাহলে তিনি অনায়াসে খাদ্যতালিকায় ছোলা অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এক আউন্স (২৮.৩৫ গ্রাম) ছোলা থেকে ৩ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া ছোলার প্রোটিনের মান বেশি, কারণ এতে মিথিওনিন ব্যাতীত প্রায় সকল এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে।

রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে

আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার কারনে দুর্বলতা ও ক্লান্তিতে ভুগতে হয়। নিয়মিত ছোলা খেলে রক্তশূন্যতা এড়ানো সম্ভব হয়। ১০০ গ্রাম ছোলাতে ৬.২ মিলিগ্রাম আয়রন আছে। এ ছাড়া ছোলার ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে। কিছু মাছ ও মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে, যারা এসব খাবার কম খান তাদের বেশি করে ছোলার মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে

ছোলাতে কেবল উচ্চমানের প্রোটিন নয়, প্রচুর পরিমাণে ফাইবারও রয়েছে। প্রতি আউন্স ছোলাতে ২ গ্রাম ফাইবার আছে। প্রোটিন ও ফাইবারের সমন্বয় পেটকে দীর্ঘসময় ভরা রাখে। উভয় পুষ্টি ধীর হজমে সাহায্যের জন্য একত্রে কাজ করে, যার ফলে দীর্ঘসময় ক্ষুধা অনুভূত হয় না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


মন্তব্য করুন

Video