বোয়ালমারীতে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Bartoman Protidin

৩ দিন আগে বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬


#

মুকুল বসু , ফরিদপুরে প্রতিনিধি :


ফরিদপুরের বোয়ালমারীর কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। অভিযুক্ত অধ্যক্ষের নাম মো. ফরিদ আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরে গভর্নিং বডির সদস্য শহীদউদ্দিন মিয়া দীপুর নিকট দুই কর্মদিবসের মধ্যে অধ্যক্ষ ও তার দুর্নীতির দোসর শরীরচর্চা শিক্ষক আব্দুর রউফের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেয় শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারিও জানান তারা। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যক্ষ মো ফরিদ আহমেদ স্বনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে অবনতি ঘটেছে। তিনি শিক্ষকদের মধ্যে  বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। জানা যায়, অধ্যক্ষ ও শরীরচর্চা শিক্ষক আব্দুর রউফ খানের বিরুদ্ধে আনীত ১৪ টি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কলেজটির পরিচালনা পর্ষদ ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গুলোখতিয়ে দেখে। এতে অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদের ব্যাপক অর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পরে। এতে গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে নানা প্রকল্প নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত হয়।তদন্ত কমিটি গত ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের ৮ নভেম্বর এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে কলেজটির  প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি  ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী সিরাজুল ইসলাম বরাবর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও তা অদ্যাবধি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ করে। এছাড়া শরীরচর্চা শিক্ষক আব্দুর রউফ খানের বিরুদ্ধে  হোস্টেল পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও অধ্যক্ষের দুর্নীতির আপাদমস্তক সহায়তাকারী ও বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে শরীরচর্চা শিক্ষক আ. রউফ খান দুর্নীতিতে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নাই। আয়-ব্যয় সব ব্যাংকের মাধ্যমে হয় এবং প্রতিটি প্রকল্প কমিটি সম্পাদন করে থাকে। আমি গভর্নিং বডির নিকট লিখিত জবাব দিয়েছি। আমি কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নই। 

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক (সাবেক) মো. আব্দুর রশিদ জানান, ৩য় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আনীত অভিযোগ তদন্ত করে আমরা ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাই। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আমাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিকট লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। পরবর্তী গভর্নিং বডির মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিলো। দীর্ঘদিন সভাপতির ব্যস্ততায় মিটিং হয়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর সাথেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। অচিরেই সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কলেজটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার নিকট এসেছিলো। অচিরেই সভা ডেকে এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে, দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের সে সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছি।




ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

#

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কোচিং সেন্টার বন্ধ কাল থেকে

#

এসএসসি পরীক্ষা স্বচ্ছ-নকলমুক্ত করতে কঠোর নির্দেশনা শিক্ষামন্ত্রীর

#

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে জুনিয়র বৃত্তি পেয়েছে ৫ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থী

#

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থাকবে দুর্নীতি মুক্ত: শিক্ষামন্ত্রী

#

আ ন ম এহসানুল হক মিলন দায়িত্ব পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

#

টানা দেড় মাসের ছুটিতে যাচ্ছে মাদ্রাসা

#

জানা গেল এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

#

রোজা উপলক্ষে স্কুল খোলা-বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বার্তা

#

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৬.৫৭%

Link copied