নতুন মন্ত্রিসভায় যারা আসছেন

Bortoman Protidin

১৪ দিন আগে শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০২৪


#

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১১ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের। বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে আরো সাত-আটজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন বলে এমন আলোচনা চলছে। এ যাত্রায় পূর্ণ মন্ত্রীর চেয়ে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীই বেশি হতে পারেন। 

এরমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে তিন-চারজন মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন। কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হবে, এর সুনির্দিষ্ট তারিখ কেউ বলতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ ও সরকারের সূত্রগুলো থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

নবগঠিত মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হয়েছেন ১৪ জন। এই তালিকায় স্থান পাননি বিদায়ি মন্ত্রিসভার ২৮ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। বাদ পড়েছেন ১৪ জন মন্ত্রী, ১২ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুজন উপমন্ত্রী। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সময় বেফাঁস মন্তব্যসহ মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত অনুপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অবৈধ সম্পদ অর্জন, স্বজনপ্রীতির কারণে অনেকেই বাদ পড়েছেন। 

এদিকে, নতুন ৭ বা ৮ জন যুক্ত হলে বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়াবে ৪৪ বা ৪৫ জনে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের পরিধি বেড়েছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতির আকার বেশ বড়। সুতরাং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা বাড়লেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না। বরং না বাড়ালে কাজের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে। নতুন কারা আসছেন মন্ত্রিসভায় এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে জোর আলোচনা চলছে। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ১১ জানুয়ারি ৩৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পর থেকেই বোঝা গিয়েছিল এটা পূর্ণাঙ্গ নয়। সংরক্ষিত আসনে বিজয়ী সদস্যদের শপথ নেয়ার পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে। 

বর্তমান মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বড় বড় বেশ কিছু মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এসব মন্ত্রণালয়ে অতীতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত একজন সদস্যকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। ওই নারী সদস্য এবার দ্বিতীয় দফায় সংরক্ষিত আসনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরপর দুবার সংরক্ষিত নারী সদস্য হওয়ার নজির কম। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী দেয়া হতে পারে।

সরকার ও আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, বিগত মন্ত্রিসভার সমান বা এর কাছাকাছি সংখ্যায় নিয়ে যাওয়া হবে বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা। কারণ, এখনো দুটি মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দুজন নারী সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা আলোচনায় আছে। আগের মন্ত্রিসভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি এবার সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি। তাকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করা হয়েছে।

২০১৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারে সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। গত সংসদে বাদ পড়েন। এবার আবার সংরক্ষিত আসনে নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে—এমন আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত একজন সদস্যকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। ওই নারী সদস্য এবার দ্বিতীয় দফায় সংরক্ষিত আসনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরপর দুবার সংরক্ষিত নারী সদস্য হওয়ার নজির কম। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী দেয়া হতে পারে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী দেয়া হয়েছে। এবার এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে এককভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তাজুল ইসলাম। এই মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। একটি সূত্র বলছে, উত্তরবঙ্গ থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কম হয়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদটি উত্তরবঙ্গের কেউ পেতে পারেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে যশোর এবং কিশোরগঞ্জের দুজন সংসদ সদস্যের বিষয়ে আলোচনা আছে। দুজনেরই পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেয়া হয়েছে বরাবরই। এবার এখন পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী কিংবা বিভাগ ভাগ করে আরেকজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আছে। চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্যের কথা শোনা যায়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, মন্ত্রিসভা গঠন, সম্প্রসারণ বা রদবদল পুরোপুরিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক এখতিয়ার। কে কে মন্ত্রিসভায় আসবেন-এটি একান্তভাবেই প্রধানমন্ত্রী জানেন। সরকারের প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকার বাড়তেও পারে, আবার নাও বাড়তে পারে। 

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

Link copied