অনলাইন বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে কোটি টাকা লুট

Bortoman Protidin

১৩ দিন আগে মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০২৪


#

অনলাইনে ৩০০ ডলার থেকে ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলেই দিনপ্রতি আয় ৬ ডলার থেকে ২০০ ডলার। এছাড়াও এমএলএম পদ্ধতিতে রেফারেন্স বোনাস মিলবে ৩০ ডলার থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত।

 উচ্চ মুনাফার প্রলোভেনের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন অনেকে। মিরপুর মডেল থানার এমন একটি মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে চারজন সাইবার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন—আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬), মো. ইমরান শেখ (২৮), মো. মাহবুবুর রহমান সাদিক (৩২) ও শাহনেওয়াজ শরীফ শামীম (৩৪)।

গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি জানায়, উচ্চ রেফারেল কমিশন এবং ৩ মাসে জমা টাকা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই চক্রের ফাঁদে পা দেয়। বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে প্রায় ৬-৭ কোটি টাকা প্রতারক চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নিয়েছেন।

যেভাবে প্রতারণা

গ্রেপ্তাররা অনলাইনে uscommunitytrad.com সাইটের মাধ্যমে তাদের ইনভেস্টমেন্ট সংগ্রহের মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তারা সাধারণ গ্রাহকদের উচ্চ হারে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্কিম প্যাকেজে ইনভেস্টমেন্ট করতে প্রলুব্ধ করেন।

তাছাড়াও একজন বিনিয়োগকারী যদি অন্য কাউকে বিনিয়োগ করাতে পারেন তাহলে প্যাকেজ ভেদে বিভিন্ন রকমের কমিশন দেওয়া হতো। সেখানে রয়েছে তাদের অসংখ্য বিনিয়োগ স্কিম প্যাকেজ।

ডিবি জানায়, প্রতারকরা প্রায় ৬ মাস ধরে সাধারণ মানুষকে অ্যাকাউন্ট তৈরি ও তাতে ক্রিপ্টোকারেন্সির সহায়তায় ডলার ডিপোজিট করতে সহায়তা করতেন। ডিপোজিট করা টাকা ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যেত। যার প্রভাব পড়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন অবৈধ।

যেসব স্কিমে নেওয়া হতো বিনিয়োগ

সিলভার প্যাকেজে ৩০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে বলা হতো প্রতিদিন রিটার্ন পাবে ৬ ইউএস ডলার ও রেফারেল কমিশন ৩০ ইউএস ডলার পাওয়া যাবে এবং এই প্যাকেজের মেয়াদ হবে ১০০ দিন।


গোল্ড প্যাকেজে ৫০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন রিটার্ন ১০ ইউএস ডলার ও রেফারেল কমিশন ৫০ ইউএস ডলার পাওয়া যাবে এবং এই প্যাকেজের মেয়াদ হবে ১০১ দিন।


ডায়মন্ড প্যাকেজে ১০০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন রিটার্ন ২০ ইউএস ডলার ও রেফারেল কমিশন ১০০ ইউএস ডলার পাওয়া যাবে এবং এই প্যাকেজের মেয়াদ হবে ১০২ দিন।


প্লাটিনাম প্যাকেজে ২০০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন রিটার্ন ৪০ ইউএস ডলার ও রেফারেল কমিশন ২০০ ইউএস ডলার পাওয়া যাবে এবং এই প্যাকেজের মেয়াদ হবে ১০৩ দিন।


এক্সক্লুসিভ প্যাকেজে ৫০০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন রিটার্ন ১০০ ইউএস ডলার ও রেফারেল কমিশন ১০০০ ইউএস ডলার পাওয়া যাবে এবং এই প্যাকেজের মেয়াদ হবে ১০৪ দিন।


ভিআইপি প্যাকেজে ১০০০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে বলা হতো প্রতিদিন রিটার্ন ২০০ ইউএস ডলার ও রেফারেল কমিশন ১০০০ ইউএস ডলার পাওয়া যাবে। এই প্যাকেজের মেয়াদ ছিল ১০৫ দিন।

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, চক্রটি আমেরিকান কোম্পানির নাম ধারণ করে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে এমএলএম স্কিমে বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত প্যাকেজের আওতায় ডলারের বিপরীতে টাকা বিনিয়োগ করতেন। আর সেই টাকা নিয়ে পলাতক হয়ে যান চক্রের সদস্যরা। এমন একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি।

ডিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে চক্রটি নতুন একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হ্যাচারি প্রজেক্টের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে বিনিয়োগ গ্রহণ করছে। তারা এই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে আট হাজার করে পচিশ মাসে দ্বিগুণ মুনাফাসহ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এটি ছিল তাদের প্রতারণার নতুন একটি ফাঁদ।

গ্রেপ্তারদের মোবাইলে হ্যাচারি প্রজেক্টের নামে অন্য একটি স্কিমের তথ্য পাওয়া গেছে। যার মাধ্যমে লাখ টাকা করে নেওয়া শুরু করেছিলেন তারা।

ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা গ্রেপ্তারদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত তাদের বিষয়ে তথ্য নিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে। আর কত সংখ্যক লোকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হবে।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied