ককটেল ফাটিয়ে টেলিকম দোকানে হামলা ও ডাকাতি
১২ ঘন্টা আগে শনিবার, জানুয়ারী ৩, ২০২৬
মেহেরপুর
সদর উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি টেলিকম ও মোবাইল ব্যাংকিং দোকানে ডাকাতির ঘটনা
ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দোকান মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ডাকাতরা নগদ টাকা
ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার
(২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার ১ নম্বর কুতুবপুর ইউনিয়নের তেরঘরিয়া
গ্রামের টাওয়ারপাড়া এলাকায় অবস্থিত এন এস টেলিকমে এ ঘটনা ঘটে।
আহত
ব্যবসায়ীর নাহিদ হোসেন (৩৪) তেরঘরিয়া উত্তরপাড়া এলাকার বেগা মোল্লার ছেলে। ঘটনার পর
তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়
ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন মুখোশধারী ডাকাত দোকানে প্রবেশ
করে। তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে নাহিদকে জিম্মি করে ক্যাশ বাক্সে থাকা প্রায় তিন লাখ
টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় এই চারটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার
লেনদেনে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ডাকাতরা নাহিদকে রামদা দিয়ে
কুপিয়ে আহত করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের সামনে একটি ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।
বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত
নাহিদ হোসেন বলেন, 'তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে আমাকে জিম্মি করে টাকা ও
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ফোনগুলো নিয়ে যায়। ফোনগুলোতে প্রায় সাত লাখ টাকার লেনদেন ছিল। যাওয়ার
সময় বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায়, এতে আমি ও আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।' এদিকে পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে তেরঘরিয়া টাওয়ারের পাশে বিকাশের দোকান
বন্ধ করার মুহূর্তে অজ্ঞাত তিন ব্যক্তি রামদা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে নাহিদ হোসেনকে ভয়ভীতি
দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে আনুমানিক দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে তাকে
বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মেহেরপুর
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, 'এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ
পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে মামলা নিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত
পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।'