কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ

Bortoman Protidin

১ ঘন্টা আগে শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬


#

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার ছাড়াই এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ না আসায় গার্ড অব অনার ছাড়াই তাকে দাফন করতে বাধ্য হন স্বজনেরা। এ নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও মৃতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গার্ড অব অনারের জন্য ঘটনাস্থলে সরঞ্জামসহ একদল পুলিশ পাঠানো হলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন ৭৮ বছর বয়সি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন আব্দুস সাত্তার। বার্ধক্যের শেষ দিনগুলো তিনি ঢাকায় ছেলের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন।

মৃত্যুর পর ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামে আনা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে বিকাল সাড়ে ৫টা বেজে যায়। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনারের জন্য অপেক্ষায় থাকেন স্বজনের। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্না ইসলামকে বিষয়টি বেশ কয়েকবার অবহিত করা হলেও ‘রাত হয়ে যাওয়ার’ অজুহতে তিনি আমলে নেননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের ভাই শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। যে মানুষটি নয় মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।”

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহালক্ষীপাড়া গ্রামের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া না গেলেও অন্তত প্রশাসনের লোক এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারত, কিন্তু তাও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা সহ্য করার মতো নয়।”

প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের অনুরোধ জানিয়েছিলেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার।“কিন্তু ইউএনও মুন্নী ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর নাকি গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না,” বলেন তিনি।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, “আমি জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”ওসি ফারুক হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম এবং পুলিশ লাইন্স থেকে বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দলও এসেছিল।

“তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে জানাজায় অংশ নিয়েছি।”ইউএনও মুন্নী ইসলাম বলেন, “সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না।

তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
#

র‍্যাবকে একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুর্নগঠন করা হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

#

বাড়তে পারে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা

#

ঝড়-বৃষ্টির আভাস ছয় বিভাগে

#

তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সংগীত শিল্পী রাহাত ফাতেহ আলীর সাক্ষাৎ

#

বইছে মৃদু শৈত প্রবাহ, হিমেল হাওয়ায় কাবু জনজীবন

#

এই প্রজন্মই দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ : তথ্য উপদেষ্টা

#

একনেকে ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

#

ছাত্রদের সঙ্গে মতবিনিময়: আজ চট্টগ্রাম যাবেন হাসনাত, মুন্সিগঞ্জে সারজিস

#

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে

#

টিকিট না থাকায় জরিমানা, স্টেশন মাস্টারকে বেধড়ক পেটালেন উত্তেজিত ব্রাজিল সমর্থক