দেশের অগ্রগতিতে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী

Bortoman Protidin

১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬


#

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি আমরা পেছনে রাখি, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদেরকে যদি ক্ষমতায়িত করতে না পারি, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে সারা দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, এর আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল করতে চাই।  সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা করব, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে তুলব। তারই অংশ হিসেবে আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ইন্ট্রোডিউস (পরিচিত) করলাম। 

তারেক রহমান বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছে। আমাদের এই কড়াইল এলাকা, ভাষানটেক এলাকা এবং সাততলা এই তিন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আজকে নিয়ে আসা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশে যে চার কোটি পরিবার রয়েছে, সেই চার কোটি পরিবারে যারা নারী প্রধান তাদের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকলের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল। এ উদ্যোগকে তিনি তাঁর সরকার ও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক একটি দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, একটি স্মরণীয় দিন এবং একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান।

দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চাই, যে সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে, যে সরকার কাজ করবে দেশের জন্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই এবং তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষ ও নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ আমরা শুরু করেছি।

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড চালুর কাজও শুরু হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যে অনেক কৃষকের হাতে সেই কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যাদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, সুদসহ সেই ঋণ আমরা মওকুফ করব। গত সপ্তাহে সেই ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর দিনটি তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবে আবেগঘন বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এই ফ্যামিলি কার্ডটি ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন। কারণ অনেক বছর ধরে আমরা পরিকল্পনা করেছি, সুযোগ পেলে এটি বাস্তবায়ন করব। আল্লাহর রহমতে আজকে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাসহ সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি গুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।

বক্তব্যের শেষে তিনি তাঁর নির্বাচনী স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায় একটি কথা আমার বক্তব্যের শেষে আমি তুলে ধরতাম। সেই কথাটি ছোট্ট একটি স্লোগানের মাধ্যমে আপনাদের সকলের কমবেশি জানা আছে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্লোগানটি পৌঁছে গেছে। আজকে সেই স্লোগানটি দিয়েই আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই, সেই স্লোগানটি ছিল: করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ! সবার আগে বাংলাদেশ!

রাজধানীর বনানীতে টিঅ্যান্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান। তবে, মঞ্চে ওঠার আগেই তিনি সোজা চলে যান মাঠে অপেক্ষমাণ নারীদের কাছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নারীরা। নানা স্লোগান দেন তারা। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এতো কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
#

রাখাইনদের চেয়ে জান্তা এখন রোহিঙ্গাদের বেশি বিশ্বাস করে

#

খুব শিগগিরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

#

নির্বাচনে নিরপেক্ষতা রক্ষায় কোনো ছাড় নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

#

শ্রমবাজারে সুনাম বজায় রাখতে সনদ জালিয়াতি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

#

ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

#

পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন ড. ইউনূস

#

আগামী ৩০ জুন থেকে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা

#

আজ থেকে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু

#

ঠাকুরগাঁওয়ে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বাড়ি

#

৫ দিন তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

সর্বশেষ

#

প্রতিশ্রুতি থেকে সরব না, যুদ্ধের জেরে কিছুটা সময় লাগবে: প্রধানমন্ত্রী

#

৫ বছরে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

#

নিজের উপদেষ্টাকে মন্ত্রী বানাতে জামায়াত আমিরের অনুরোধ

#

ঈদের ছুটি বাতিল করল এনবিআর, নতুন নির্দেশনা

#

দেশের অগ্রগতিতে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী

#

বাণিজ্য ও বিমান খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের আলোচনা

#

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

#

পর্যাপ্ত মজুত আছে, ভোজ্যতেলের দাম একফোঁটাও বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

#

প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪ পরিবার

#

হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Link copied