পাঁচ দিন বয়সী যমজ দুই কন্যা সন্তানকে রেখে উধাও মা
৫৯ মিনিট আগে বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
পাঁচ
দিন বয়সী যমজ দুই মেয়ে সন্তানকে রেখে উধাও হয়েছেন মারিয়া নামে এক নারী। বর্তমানে শিশুদুটির
বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে নবজাতকের বাবা সাকিব হোসেন।
ঘটনাটি
ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরশহরের ধারিয়াল গ্রামে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতক দুই সন্তানের নাম রাখা হয়েছে মাহা এবং মানহা।
স্থানীয়রা
জানান, আড়াই বছর আগে ঘাটাইল পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ময়েন উদ্দিনের মেয়ে মারিয়ার সঙ্গে
ধারিয়াল এলাকার সোলায়মান হোসেনের ছেলে সাকিবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে
তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন সাকিবের বয়স ছিলো ১৭ আর মারিয়ার ১৫ বছর। অসম এই বাল্যবিবাহ
তাদের উভয় পরিবারের সদস্যরা মেনে না নিলে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাকিবের
পরিবার বিয়ে মেনে নিয়ে তাদের ঘরে তুলে নেন।
গত
১৩ আগস্ট স্থানীয় হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ দুই
মেয়ে সন্তান প্রসব করেন মারিয়া। পরে দুই সন্তানসহ মারিয়াকে সাকিব নিজ বাড়ি ধারিয়ালে
নিয়ে আসেন। কিন্তু গত ১৭ আগস্ট রাত থেকে কাউকে কিছুই না জানিয়ে নবজাতক দুই সন্তানকে
বাড়িতে একা রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যান মারিয়া। এখনো মা ফিরে না আসা নবজাতক দুটির বেঁচে
থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নবজাতকের
বাবা সাকিব হোসেন বলেন, যমজ শিশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। নবজাতকের জন্য অনেক সমস্যার
সমাধান করা গেলেও মায়ের অভাব কোনোভাবেই পূরণীয় নয়।
তিনি
অভিযোগ করে বলেন, মারিয়া কোথায় চলে গেছে তা আমি জানি না। নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে মায়ের
খুবই প্রয়োজন। আমাদের বিয়ের বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়ি মেনে নেয়নি। তাদের প্ররোচনায় এই ঘটনা
ঘটে থাকতে পারে।
মারিয়ার
বাবা ময়েন উদ্দিন জানান, তার মেয়ে এখন কোথায় কী অবস্থায় আছে সেটি তার জানা নেই।
এ
বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি
সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শিশুদুটির মাকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার
চেষ্টা চলছে।