‘পিচ্চিদের কাঁদাতে ভালো লাগে’ লিখে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট শিক্ষকের
১ দিন আগে মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
মাদ্রাসায়
পড়তে আসা একটি শিশুকে নির্যাতন করার দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
পোস্ট করেছিলেন এক শিক্ষক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়,
এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে
প্রকাশ করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।’
ভিডিওটি
প্রকাশের সঙ্গে জড়িত ইমরান হোসেন নামের এক সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক পরে লাইভে এসে ঘটনার
জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। সমালোচনার মুখে ইমরান হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন,
শিশুটিকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে নিজের আচরণ ভুল ছিল বলে স্বীকার করে তিনি
ক্ষমা চান।
মাদ্রাসা
কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই মাস আগে ইমরান হোসেনকে
প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে
শাস্তি দেওয়া এবং অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া শিশুদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
প্রকাশের অভিযোগ ছিল।
রায়পুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে
এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে
আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক
সংগঠন আলফা স্টারের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য
নিরাপদ পরিবেশ হওয়া উচিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার
দাবি জানান তিনি।
মানবাধিকারকর্মী
জাকির মাহমুদ জুয়েল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ শিশুর মর্যাদা
ও অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও কার্যকর
নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।