তিন টাকার বাইসাইকেল, ৮০ বছর ধরে তিন প্রজন্মের সঙ্গী
৩ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
মাত্র
তিন টাকায় কেনা একটি বাইসাইকেল। পেরিয়ে গেছে প্রায় ৮০ বছর, অথচ এখনো সচল রয়েছে সেটি।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের চাপালী গ্রামের ওয়াহেদ আলী শেখ এখনো ব্যবহার করছেন ইংল্যান্ডের
‘র্যালি’ ব্র্যান্ডের সেই পুরোনো সাইকেলটি। তিন প্রজন্ম ধরে সাইকেলটি
হয়ে উঠেছে পরিবারের স্মৃতি, আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক।
১৯৪৬
সালে যশোর শহর থেকে মাত্র তিন টাকা দিয়ে সাইকেলটি কিনেছিলেন ইউসুফ আলী শেখ। সে সময়
তিনি তহশিল অফিসে চাকরি করতেন এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য সাইকেলটি ব্যবহার করতেন।
ইউসুফ
আলী ও পাচু শেখ ছিলেন দুই ভাই। পাচু শেখের ছেলে আনসার আলী শেখ ছিলেন ইউসুফ আলীর ভাতিজা।
ইউসুফ আলী অসুস্থ হয়ে পড়ার কয়েক বছর পর তার প্রিয় ভাইঝি জাহারন নেছাকে সাইকেলটি উপহার
দেন। তবে জাহারন নেছা সাইকেল চালাতে না পারায় তার ভাই আনসার আলী সেটি নিজের বাড়িতে
নিয়ে আসেন।
পেশায়
সাইকেল মিস্ত্রি আনসার আলী দীর্ঘদিন কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে সাইকেল মেরামতের
দোকান চালিয়েছেন। বাড়ি থেকে দোকানে যাতায়াতসহ নানা কাজে তিনি ওই সাইকেল ব্যবহার করতেন।
সাইকেলটির প্রতি ছিল তার বিশেষ যত্ন। সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেই নিজেই মেরামত করতেন।
সময়ের
সঙ্গে সাইকেলটির কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হলেও এর মূল কাঠামো এখনো অনেকটাই আগের
মতো রয়েছে।
আনসার
আলী শেখ মারা যাওয়ার পর সাইকেলটি তার বড় ছেলে ওয়াহেদ আলী শেখের হাতে আসে। বাবার মতো
সাইকেল মেরামতের কাজ না জানলেও তিনিও অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এটি ব্যবহার করছেন। জরুরি
প্রয়োজনে কিংবা কাছাকাছি কোথাও যেতে এখনো তার অন্যতম ভরসা এই সাইকেল।
ওয়াহেদ
আলী বলেন, বাবার কাছ থেকেই তিনি সাইকেলটি পেয়েছেন। যত্ন করে ব্যবহার করছেন এবং আশা
করছেন আরও অনেক বছর এটি চালাতে পারবেন।
তার
ভাই আবদুস সামাদ জানান, তাদের বাবা শুধু যাতায়াতের জন্য নয়, বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের
কাজেও সাইকেলটি ব্যবহার করতেন। প্রয়োজনের সময় এলাকার মানুষও তার বাবার কাছ থেকে সাইকেলটি
ধার নিয়ে ব্যবহার করতেন।
স্থানীয়
বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি আনসার আলীকে এই সাইকেল চালিয়ে চলাফেরা
করতে দেখেছেন। তার মতে, ভালোবাসা ও যত্ন থাকলে পুরোনো জিনিসও দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা
সম্ভব।
প্রায়
আট দশক পেরিয়ে যাওয়া এই সাইকেলটি এখন পরিবারের কাছে নিছক একটি পুরোনো বাহন নয়। এটি
হয়ে উঠেছে তিন প্রজন্মের স্মৃতি, পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। স্থানীয়দের
কাছেও এমন দীর্ঘদিন সচল থাকা সাইকেলটি বেশ কৌতূহল ও বিস্ময়ের বিষয়।