বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত
১ ঘন্টা আগে সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার সুজানগরে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ১০ জন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম চায়না খাতুন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের বিরোধ চলছে। রোববার রাতে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
এ নিয়ে গত রাত থেকেই উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরে সোমবার সকালে ইসলাম গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হন। এসময় রাজা গ্রুপ লাঠিসোঁটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে ও বাড়ি ভাঙচুর করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এসময় গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া গুরুতর আহত হন অন্তত ১০ জন। তাদের উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। এজন্য রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন।
আমি খবর পেয়ে তখনই সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনে তাদের মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমাকেও মারধর করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে। সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার নেতৃত্বে তার গ্রুপের লোকজন আমাদের গ্রামের লোকজনের ওপর গুলি ছোড়ে ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে স্পটে মারা গেছে চায়না খাতুন। এছাড়া আট-১০ জন আহত হয়েছে।
অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি স্পটেও ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছেন কিনা আমি জানি না। আমি শুনেছি, চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আপনারা ভালো করে তদন্ত করে দেখেন, আমি সেখানে ছিলাম কি না, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কি না। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই বিএনপি সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা ও পূর্বপাড়া এলাকার দুপক্ষের মধ্যে গতরাতে ঝামেলা হয় শুনেছি। সেই ঘটনার পর পূর্বপাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) পশ্চিমপাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় পশ্চিমপাড়ার (ইসলাম গ্রুপের) লোকজন। আজ সকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা বসাযন তারা এবং বাজারের উদ্দেশ্যে যাওয়া পূর্বপাড়ার লোকদের ফিরিয়ে দেন পশ্চিমপাড়ার লোকজন। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে পূর্বপাড়ার লোকদের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।