ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি শিশুর মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
লালমনিরহাটের
আদিতমারীতে ভুট্টা খেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর
বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে নিহত ওই শিশুর (৭) মরদেহ
উদ্ধার করা হয়।
নিহত
শিশু ব্রাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সোমবার (১৫ জুন)
বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা
হয়েছে।
নিহতের
পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় নন্দিনী। সন্ধ্যা
গড়িয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
সারারাত সন্ধান করেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
মঙ্গলবার
(১৬ জুন) সকালে ভুট্টা খেতে গাছ ভাঙা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খেতের ভেতরে গিয়ে
তারা একটি গর্ত দেখতে পান, যেখানে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া
ছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়
ও পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এলাকারই কোনো দুর্বৃত্ত শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে।
এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ বস্তায় ভরে গর্তে পুঁতে রাখে।
শিশুটির
বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘গ্রামে কারও সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। খুব সাধারণ জীবনযাপন
করি। সোমবার দুপুরেও মেয়ের সঙ্গে এক পাতিল থেকে ভাত খেয়েছি। ছোট্ট মেয়েটিকে জোরপূর্বক
ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শিশুটির
মা আহাজারি করে বলেন, ‘বাড়ির পাশেই অনেকগুলো ভুট্টাখেত। হয়ত মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে
বা জোর করে সেখানে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এরপর তাকে হত্যা করেছে।
মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
খবর
পেয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপারসহ আদিতমারী থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল
পরিদর্শন করেছেন।
আদিতমারী
থানার এসআই তুহিন মিয়া বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে
শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা
যাবে।’