কাতারপ্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা
১ ঘন্টা আগে বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
মাদারীপুরে
ঘরে ঢুকে আইভী আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার
পর তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
মঙ্গলবার
(৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত
আইভী আক্তার ওই এলাকার আসলাম শরীফের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে শরিয়তপুর শহরের বাসিন্দা
ও কাতারপ্রবাসী মো. ফেরদৌসের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর পরিবারের আর্থিক
স্বচ্ছলতার জন্য ফেরদৌস কাতারে চলে যান।
পুলিশ
ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ছোটবেলা থেকেই চাচা
কালাম শরীফের বাড়িতে থাকতেন আইভী। স্বামী বিদেশে থাকায় সম্প্রতি তিনি চাচার বাড়িতে
বেড়াতে আসেন।
মঙ্গলবার
সন্ধ্যায় আইভীর চাচা কালাম শরীফ নামাজ পড়তে স্থানীয় একটি মসজিদে যান। একই সময়ে পরিবারের
অন্য সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য মাদারীপুর শহরে ছিলেন। নামাজ শেষে বাড়িতে
ফিরে কালাম শরীফ ঘরের ভেতর আইভীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে
তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের
মর্গে পাঠানো হয়।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন
পুলিশের
প্রাথমিক ধারণা, আইভীর ব্যবহৃত আইফোন চুরির উদ্দেশ্যে চোরচক্র ঘরে ঢুকেছিল। এ সময় আইভী
তাদের চিনে ফেলায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে তারা। তবে হত্যাকাণ্ডটি
চুরি নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের
চাচা কালাম শরীফ বলেন, নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে আইভীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত দেখতে পান।
পরে পুলিশকে খবর দেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মাদারীপুর
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন
স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চুরির উদ্দেশ্যে নাকি পারিবারিক বিরোধের
কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি
আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য
অভিযান ও তদন্ত চলছে।