চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০
১ ঘন্টা আগে বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
শেরপুর-৩ আসন (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) এলাকায় নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন। দুপুরের দিকে অনুষ্ঠান শুরুর প্রস্তুতির সময় মঞ্চের সামনে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়।
কথাকাটাকাটির জেরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকেরা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে জামায়াতের অন্তত ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের মাহমুদুল হক রুবেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই হামলা চালানো হয়, এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, সব প্রার্থীদের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বসার স্থান নিয়ে সাময়িক গোলযোগ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।