পানির পাইপলাইনে বিষ প্রয়োগ ‘সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ’: এসপি মাসুদ
১১ দিন আগে শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
চট্টগ্রামের
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছেন, রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো
সম্পূর্ণ ‘অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম’। দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে
অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে নিয়মিত মামলা রুজু করা
হচ্ছে।
রোববার
(২৬ জুলাই) রাতে মোবাইল ফোনে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ
সুপার মাসুদ আলম বলেন, আলীনগরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মিলিয়ে
প্রায় তিনশ সদস্য রয়েছেন। তাদের জন্য পাশের ডিপটিউবওয়েলের সংযোগস্থলে বিষ বা বিষজাতীয়
কিছু পুশ করেছিল দুর্বৃত্তরা। পরে অপারেটর সকালে পানি ও টাংকি চেক করতে গিয়ে দুর্গন্ধ
পেয়ে সবাইকে সতর্ক করেন।
তিনি
আরও বলেন, রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো এই ধরনের বারবার ঘটনা সম্পূর্ণ
অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম (সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ)। দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে
অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
রাষ্ট্রের
ভেতরে ‘আলাদা রাষ্ট্র’ খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল
সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এলাকাছাড়া করতে দফায় দফায় এমন জঘন্য নাশকতা
চালাচ্ছে অপরাধী চক্র। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) সকালে পুলিশ ক্যাম্প ও স্থানীয় একটি
স্কুলের যৌথ পানি সরবরাহের পাইপলাইনে সুপরিকল্পিতভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগের পর তিন
পুলিশ সদস্য অসুস্থ হলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এর
আগে, জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদ্য প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্প লক্ষ্য করে
মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছিল সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াত ও
অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে মূল সড়কের বিভিন্ন অংশ বুলডোজার দিয়ে কেটে ফেলা হয়, যাতে সাঁজোয়া
যান বা দ্রুতগতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে না পারে। এমনকি সে সময় সশস্ত্র
হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন চৌকির দেওয়াল ও বিভিন্ন অবকাঠামোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পাহাড়ি
এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ও যৌথ বাহিনীকে হটাতে এর আগেও ক্যাম্প লক্ষ্য
করে গুলিবর্ষণ এবং বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়ার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল
চক্রটি।