কিডনি দান করে স্বামীকে নতুন জীবন দিলেন স্ত্রী
১ ঘন্টা আগে রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬
১৪
ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কেউ ফুল দিয়ে ভালোবাসা জানায়, কেউ উপহার দিয়ে। কিন্তু
ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ কি শুধুই কিছু মুহূর্তের আনন্দ? নাকি প্রিয় মানুষকে বাঁচাতে
নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার নামই সত্যিকারের ভালোবাসা? মৃত্যুর দুয়ারে দঁড়িয়ে থাকা স্বামীর
সংকট মুহূর্তে হাত ছাড়েননি তার জীবনসঙ্গী। নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করে
স্বামীকে নতুন জীবন দিয়ে ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন স্ত্রী।
হাসপাতালের
বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন বরিশাল নগরীর বাসিন্দা আবদুর রহমান। তার দুটি কিডনিই
অচল হয়ে গেছে। হাসপাতালের করিডোরে তখন অনিশ্চয়তার ভারী বাতাস। ডাক্তাররা জানিয়ে দেন
রহমানকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য জীবনের
উপার্জিত অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ভাইয়ের হাতে। কিন্তু সেই ভাই রক্তের বাধনকে ছিন্ন করে
লোভে পড়েন অর্থের। অসুস্থ ভাইকে হাসপাতালে রেখে টাকা-পয়সা নিয়ে সটকে পড়েন তিনি।
সে
সময় দিশেহারা রহমানের স্ত্রী মেসাম্মাত তানজিলা, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে নিরুপায়। কি
করে বাঁচাবে তার স্বামীকে। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় নিজের একটি কিডনি দিয়ে তার প্রিয়
জীবন সঙ্গীকে ফিরিয়ে আনবেন তার ভালোবাসার সংসারে। ছোট ছোট দুটি সন্তান মায়ের কাছে রেখে
সুদূর ভারতের ভেলোরে দীর্ঘ ৮মাস একাই জীবন মরণ যুদ্ধে লড়াই করে ভোলাবাসার মানুষকে নিয়ে
ফেরেন দেশে। করুণ এই ভালোবাসার কথা গুলো যেন স্বরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। তাই আজও রহমান
ও তানজিলার সংসার কাটছে অফুরন্ত ভালোবাসায়।
জানতে
চাইলে স্ত্রী মোসাম্মাত তানজিলা বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামীর সংসারে অবহেলিত ছিলেন
তানজিলা। স্বামীর কাছ থেকে পায়নি ভালোবাসা। স্বামী নিজে তার উপার্জিত অর্থ পরিবারের
আপন লোকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারাই স্বামীকে ফেলে চলে যায় অনত্র। নিজের
স্বামীকে বাঁচাতে দিন রাত এক করে জমানো টাকা আর শরীরের কিডনি দিয়ে ফিরিয়ে আনেন স্বামীকে। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীকে নিজের জীবনের চেয়েও
বেশি ভালোবাসি। স্বামীকে হারাতে চাইনি তাই নিজের কিডনি দিয়ে তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছি।
বর্তমানে আমি স্বামীর ভালোবাসা পাচ্ছি। তিনি এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আমি আমার
স্বামীকে নিয়ে সুখেই আছি।
১৪
ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দিনে অনেকেই ভালোবাসার মানুষকে ফুল, চকলেট কিংবা
উপহার দেন। কিন্তু রহমান ও তার স্ত্রীর গল্প মনে করিয়ে দেয় ভালোবাসা শুধু প্রকাশের
নয়, ত্যাগের নামও ভালোবাসা। ভালোবাসা মানে শুধু পাশে থাকা নয়, প্রয়োজনে নিজের ভেতরের
শক্তিটুকু উজাড় করে দেওয়া।
আবদুর
রহমানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি নতুন জীবন পেয়েছি আমার স্ত্রীর কারণে। সে না
থাকলে আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। আমি তার কাছে সারাজীবন ঋণী।
ফুল
শুকিয়ে যায়, উপহার হারিয়ে যায় কিন্তু ভালোবাসার জন্য দেওয়া এক টুকরো জীবন চিরকাল অম্লান
হয়ে থাকে। তাই তো ভালোবাসা সবসময়ই সুন্দর।