ডাকসুর কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে সমালোচনা
১ ঘন্টা আগে রবিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
গতকাল শনিবার একটি কনসার্ট আয়োজিত হয়েছে। এই কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে পড়ে গেছে ডাকসু।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
কেন্দ্রীয় মাঠে গত রাতে ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টের আয়োজন হয়। এর সহ-আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট
অফ জুলাই’ নামের একটি সংগঠন। সে কনসার্টেই এই ঘটনা ঘটে।
এই কনসার্টস্থলে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়।
যা ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন বলেও জানান তারা।
ধূমপান ও তামাকজাত
দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) ধারা ৫(খ) বলছে, তামাকজাত দ্রব্য
কিনতে প্রলুব্ধ করে, এমন কোনো কাজ করাই নিষিদ্ধ। বিনা মূল্যে বিতরণ কিংবা স্বল্প মূল্যে
বিক্রিও এর আওতাতেই পড়ে। ধারা ৫(গ) অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বা
এর ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান বা কোনো অনুষ্ঠানের
ব্যয়ভার বহনও অপরাধ।
এই ধারার বিধান
লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধানও আছে বিদ্যমান আইনে। অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে এই প্রচারণাও আইনত অবৈধ। আইনের ৬(খ) ধারা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল,
ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত
দ্রব্য বিক্রি করলে শাস্তি হবে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।
এই ঘটনার পর
ডাকসু তোপের মুখে পড়ে গেছে। অভিযোগের তির ধেয়ে যাচ্ছে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক
সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের দিকে। এই বিষয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান,
কনসার্টস্থলে স্মোকিং জোন বানাবে স্পনসর প্রতিষ্ঠান এক্স ফোর্স।
মুসাদ্দেক বলেন,
‘আমি এটা শুনে অনেক বেশি ইতিবাচক হই। আমি কনসার্টের পুরোটা সময় ধরে গেস্ট ও স্টেজ ম্যানেজমেন্ট
নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাঠে কী হচ্ছিল, সে ব্যাপারে অবগত ছিলাম না। কনসার্টের শেষদিকে আমি
ফেসবুকে দেখতে পাই যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তখন আর কিছু করার সুযোগ ছিল না। আমি অবগত
ছিলাম না যে তারা স্মোকিং জোনের ভিতর ফ্রিতে সিগারেট দেবে শিক্ষার্থীদের।’
তবে এই পোস্টেও
ডাকসু নিস্তার পায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতারা।