পদ্মশ্রী সম্মান পাচ্ছেন গোবর গোমূত্র গবেষক
১ ঘন্টা আগে বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
পদ্মশ্রী
সম্মান ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক
ভি কামাকোটি। শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পদ্মশ্রী দেওয়ার
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে কটাক্ষ করে কেরালা কংগ্রেস।
এর জবাবে মাঠে নামেন জোহো করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু, যার ফলে বিষয়টি ঘিরে
তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
২০২২
সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ভি কামাকোটি। পদ্মশ্রী
পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এই সম্মান তার একক অর্জন নয়, বরং সমষ্টিগত প্রয়াসের
স্বীকৃতি। একই সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য অর্জনে আরও বেশি কাজ করার প্রত্যয়
ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে
সম্মান ঘোষণার পরই কেরালা কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ব্যঙ্গাত্মক
পোস্ট করা হয়। সেখানে কামাকোটির আগের একটি বক্তব্য উল্লেখ করে ‘গোমূত্র গবেষণা’কে
আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার জন্য তাকে অভিনন্দন জানানো হয়।
উল্লেখ্য,
গত বছর কামাকোটি দাবি করেছিলেন, গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল
বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং তা আইবিএসসহ কিছু রোগে উপকারী হতে পারে। ওই বক্তব্যকে ঘিরে সে
সময় দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
কেরালা
কংগ্রেসের এই কটাক্ষের জবাবে শ্রীধর ভেম্বু সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ভি কামাকোটি একজন
‘ডিপ টেক’ গবেষক, যিনি মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো উচ্চপ্রযুক্তিগত
ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
তার মতে, পদ্মশ্রী সম্মান কামাকোটির প্রাপ্যতার প্রশ্নে কোনো সন্দেহ নেই।
ভেম্বু
আরও মন্তব্য করেন, গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার যথেষ্ট সম্ভাবনা
রয়েছে। এসব বিষয়কে কেবল ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ থেকে অস্বীকার করা উচিত নয় বলেও মত
দেন তিনি।
এরপর
বিতর্ক আরও বিস্তৃত হয়। কেরালা কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে শুধু গরু
কেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে, অন্য প্রাণীর বিষয়গুলো কেন বিবেচনায় আসছে না। পাশাপাশি তারা
মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য নিয়ে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণার উদাহরণ টেনে আর্থিক
অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করে।
কেরালা
কংগ্রেস সরাসরি শ্রীধর ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জ জানায়। তাদের বক্তব্য, যদি গোমূত্রের চিকিৎসাগত
উপকারিতা সত্যিই কার্যকর হয়, তবে একজন বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা হিসেবে ভেম্বু নিজেই কেন
সেই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না। ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগ নিরাময়ে এটি কার্যকর প্রমাণিত
হলে সেটিই হতে পারে ভারতের বৈশ্বিক অবদানের অন্যতম বড় উদাহরণ।