বিয়ের পর ৩ দিন টয়লেটে যেতে পারেন না নব দম্পতি

Bortoman Protidin

২০ দিন আগে বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬


#

বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, রীতি ও সংস্কৃতির বহুস্তরীয় ইতিহাস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিয়েকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা প্রচলিত আছে, যা অন্য সংস্কৃতির মানুষের কাছে বিস্ময়কর বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তেমনই এক ব্যতিক্রমী বিবাহরীতি দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যেখানে বিয়ের পর টানা ৭২ ঘণ্টা নবদম্পতিকে টয়লেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়।

এই অদ্ভুত রীতিটি মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে বসবাসকারী 'তিদোং' নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিবাহপ্রথাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হলেও তিদোং জনগোষ্ঠীর কাছে এটি কোনো নিষ্ঠুর নিয়ম নয়; বরং এটি দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা, ধৈর্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতীক।

তিদোংরা একটি অস্ট্রোনেশীয় নৃগোষ্ঠী, যাদের বসবাস সাবাহ, কালিমান্তান ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায়। তিদোং সমাজে বিয়ে মানে শুধু দুজন মানুষের মিলন নয়; এটি দুই পরিবার, কখনো কখনো গোটা সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বন্ধন।

এই রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নবদম্পতিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়। সেখানে তারা বাইরে যেতে পারে না, কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারে না এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে মানা হয় টয়লেট ব্যবহার। এই তিন দিনে খাবার ও পানীয়ও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হয়, যাতে শরীরের প্রাকৃতিক চাহিদা কমে। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকেন, যাতে কেউ নিয়ম ভাঙতে না পারে।

এই কঠোর নিয়মের পেছনে রয়েছে গভীর বিশ্বাস। তিদোং সমাজে ধারণা করা হয়, বিয়ের পর প্রথম তিন দিন এই নিয়ম মেনে চলতে পারলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও কলহমুক্ত। বিপরীতে নিয়ম ভঙ্গ করলে সংসারে অশান্তি, দুর্ভাগ্য বা বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে বলে মনে করা হয়। তাই এই তিন দিনকে অনেকেই ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখেন।

একসময় বিয়ে ছিল পারিবারিক ও সামাজিক জোটের প্রতীক। সেই বন্ধনকে অটুট রাখতে নানা শপথমূলক আচার চালু হয়, যা সময়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক রীতিতে রূপ নেয়। ৭২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞাও সেই ঐতিহ্যেরই অংশ।

তবে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব বা মলত্যাগ বন্ধ রাখা শরীরের জন্য ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা সুপ্রতিষ্ঠিত। সে কারণে বর্তমানে অনেক তিদোং পরিবার এই রীতিকে শিথিলভাবে পালন করে।

আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রভাবে তিদোং সমাজেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রজন্ম আগের মতো কঠোরভাবে এই নিয়ম অনুসরণ না করলেও এটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারণ এই রীতি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও বিয়ের উৎসবের ঐতিহ্যবাহী আবহের সঙ্গে এখনো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
#

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চলতি সপ্তাহে: সিইসি

#

মাদ্রাসা থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

#

বর্তমান সরকার কোনো উন্নয়ন কাজ বন্ধ করেনি,করবেও না: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

#

কুমিল্লায় ৩০ কেজি গাঁজা’সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

#

৫ আগস্টের পর গিরগিটির মতো ভুয়া সমন্বয়ক তৈরি হয়েছে: সমন্বয়ক সারজিস আলম

#

অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন: তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ

#

বিচার ও পুলিশ বিভাগের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

#

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে দেশীয় অস্ত্রের কারখানার সন্ধান: অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ আটক ৪

#

শনিবার ব্যাংক খোলা রাখতে ইসির চিঠি

#

শহীদ মিনার আমাদের প্রতিরোধ ও বিজয়ের প্রতীক : তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ

সর্বশেষ

#

কাগজ দেখতে চাওয়ায় ট্রাকচালকের হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত

#

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের অভিনন্দন

#

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে জুনিয়র বৃত্তি পেয়েছে ৫ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থী

#

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী ফেনীতে, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে

#

বাংলাদেশের ডিম-মুরগিতে নিষেধাজ্ঞা দিলো সৌদি

#

বাথরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা আসামিকে আটক করল পুলিশ

#

বিটিভিকে জনগণের প্রচারমাধ্যমে রূপান্তরের উদ্যোগ: তথ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

#

জামায়াত আমিরের অসুস্থতার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

#

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

#

বাংলাদেশে আরো বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Link copied