‘ভালোবাসা আর পরিবারের অমতে গিয়ে করা বিয়েই যেন ছেলের জন্য কাল হলো’

Bortoman Protidin

৫৮ মিনিট আগে শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬


#

রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইন্সের বহুতল ভবন থেকে সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাইদুলের এমন মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছিলেন সাইদুল ইসলাম।

সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তিনি প্রায় ৯ মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি ডেমরা পুলিশ লাইন্সে থাকতেন।

সাইদুলের মৃত্যুর খবর ফেনীর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তার মা। প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তার কান্নায় পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

কাঁদতে কাঁদতে সাইদুলের মা বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের পরও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ভালোবাসা আর পরিবারের অমতে গিয়ে করা বিয়েই যেন ছেলের জন্য কাল হলো।

সাইদুল ইসলামের চাচা মো. সোহাগ জানান, কিছুদিন আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে করেন সাইদুল। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদও ঘটে। বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি সাইদুল। বিচ্ছেদের পর থেকেই সাইদুল চরম মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিরহ সইতে না পেরেই এ অবস্থা।

লেমুয়ার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এম. এমরান পাটোয়ারী জানান, পুলিশ লাইন্স থেকে ফোন করে মৃত্যুর খবরটি পরিবারকে জানানো হয়। শুক্রবার বিকেলে নিহতের বাবা মো. সাদেক ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, ডেমরায় সাইদুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে লোকজনের মুখে শুনেছি। তার বাড়ি ফেনীতে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা পুলিশ লাইন্সের নিজ কক্ষে ফাঁস দেন সাইদুল। পরে সহকর্মীরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আত্মহত্যার প্রায় ১৬ ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ত্রীর সঙ্গে পুরোনো কিছু ছবি ও ভিডিও সংযুক্ত করে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন সাইদুল। সেখানে বৈবাহিক জীবনের তীব্র মানসিক কষ্ট, হতাশা ও স্ত্রীর প্রতি ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে সাইদুল লিখেছিলেন- ‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে... সমুদ্রের মাঝখানে তরী ডোবা মানুষ অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর যেমন কূলের দেখা না পেয়ে শেষমেষ নিয়তিকে মেনে নেয়, সাদরে গ্রহণ করে মৃত্যুকে, তেমনি আমারও যেন কিছুই করার নেই।

সম্পর্কের ইতি টানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, ‘তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ? নাকি সবকিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ? তুমি না বলছিলা, মৃত্যু ছাড়া তুমি কখনোই আমাকে ছেড়ে যাবে না? এখন কই তুমি?’

স্ত্রীকে বারবার সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না যে বিশ্বাস করলে নিজেরই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।

পোস্টের শেষ অংশে নিজের বাবা-মায়ের প্রতি ক্ষমা চেয়ে অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে তিনি লেখেন- ‘দুঃখিত আম্মু-আব্বু, আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেছে না আম্মু, আর পারতেছে না। আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই। মাফ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied