সরকার গঠন করতে পারলে ইনসাফ কায়েম করে সবার ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হবে: সাতক্ষীরায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

Bortoman Protidin

১৫ দিন আগে শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬


#
রাষ্ট্রের সকল মানুষের জন্য বাঁচার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সরকার যেদিন থেকে শপথ নেবে, সেদিন থেকে কেউ কালো টাকার দিকে হাত বাড়াতে পারবে না। যারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করবে, তাদের বেতন হবে সম্পূর্ণ আলাদা। যে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পরিশ্রম করেন আর যে ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন- উভয়ের মজুরি সমান হওয়া চরম বে-ইনসাফি। ইনসাফ কায়েমের মানে এটা নয় যে, সবাইকে সমান দিতে হবে। ইনসাফ মানে হলো- সবাইকে ন্যায্য পাওনা দিতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সংসদ সদস্যপ্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও গাজী নজরুল ইসলাম এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
আমীরে জামায়াত বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুলুম করা হয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়। একটি জেলায় এত বেশি মানুষকে আর কোথাও হত্যা করা হয়নি। বিচার আমরা দুনিয়ায় পাব কি না জানি না, তবে আখিরাতে পাব ইনশাআল্লাহ।
তিনি জনতার অভিমত তুলে ধরে বলেন, বিগত সরকার এই জেলাকে দেশের অংশ বলে স্বীকার করেনি। তাই কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়নি। তারা মনে করেছিল আজীবন ক্ষমতার চেয়ারে থাকতে পারবে। কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা চূড়ান্ত। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, এই দুনিয়াটি আমি সৃষ্টি করেছি। সেখানে আমার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কিছু মানুষকে সুযোগ দিই। যারা আমাকে স্মরণ করে আমার প্রতিনিধিত্ব করে, আমি তাদের সম্মানিত করি। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিই।
আমীরে জামায়াত বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের সঙ্গে একটি বড় জুলুম করা হয়েছে, যা আর কোথাও করা হয়নি। এখানকার নেতৃবৃন্দের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার মানুষের অপরাধ- তারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের মা-বোনদের জেলে ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, এমনকি তাদের হত্যা করা হয়েছে।
জনশক্তির নৈতিক দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরাসহ কোথাও আমাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা মামলাবাজি করেনি। আমাদের ভাইদের বলেছি- ক্ষমা করে দাও, তার প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। তবে কেউ ন্যায়বিচার চাইলে আমরা তাদের সহায়তা করতে রাজি। আমাদের আটটি মামলায় মাত্র একজন আসামি, অথচ অনেক মামলায় এক হাজার-দেড় হাজার আসামি করা হয়েছে। এভাবে বাণিজ্য করা হচ্ছে, মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। যারা জুলুমের শিকার হয়ে মজলুম ছিল, তারাই আবার মানুষের ওপর জুলুম করছে।
আমীরে জামায়াত অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরার সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। একটি দ্বীনদার শাসন কায়েম করতে, মদিনার মতো সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সাতক্ষীরার আসনগুলো আমাদের উপহার দেবেন। আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে আপনাদের ঋণ পরিশোধে জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করা হবে, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে কোনো শিক্ষিত দুর্বৃত্তকে জনগণের সম্পদ লুট করতে দেব না। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে ২৮ হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। ওদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে তা বের করে আনব।
পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আমরা দুটি ভোট দেব। একটি দেব বস্তাপচা রাজনীতি ও জুলুমের বিরুদ্ধে এবং মা-বোনদের ইজ্জতের পক্ষে। এটা বুঝতে পেরে একটি পক্ষের মাথা গরম হয়ে গেছে। আরে ভাই, মাঘ মাসে এত গরম হলে চৈত্র মাসে কী করবেন? ঠান্ডা থাকুন। বাংলাদেশের যুবকরা জানিয়েছে- তারা পরিবর্তনের পক্ষে।
জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাঁচটি সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা জানিয়ে দিয়েছে। এক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলেছে, ‘আমরা গর্ববোধ করছি’- কারণ শিবির আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মানুষ জিজ্ঞেস করে- আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে? আমরা বলি- চার মাসে ডাকসু যেমন হয়েছে, বাংলাদেশও তেমন হবে।
নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, কিছু লোক আমাদের মায়েদের ইজ্জতে হাত দিয়েছে। তাদের বলব- মায়েদের ইজ্জত দিতে শিখুন। মনে রাখবেন, আমাদের ইজ্জতের চেয়েও আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মূল্য বেশি। কোথাও মায়েদের ইজ্জতের হানি হলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাবেন। মায়েদের বলি- যেদিন ইনসাফের দেশ কায়েম হবে, সেদিন আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একদিকে বলেন ফ্যামিলি কার্ড দেবেন, আবার নির্যাতন করবেন-সতর্ক হয়ে যান, এমন দ্বিচারিতা জনগণ মানবে না।
তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেব না। যুবকরা কারও ভাতা চায় না। তারা সম্মানের সঙ্গে দেশ গড়তে চায়। তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। এই জেলায় কাজী শামসুর রহমানের মতো নেতা ছিলেন, মাওলানা অবদুল খালেক (রহ.)-এর মতো নেতা ছিলেন, মাওলানা রিয়াসত আলীর মতো নেতা ছিলেন। আপনাদের গর্বিত ছেলে মোস্তাজি- তাকে একটি ম্যাচ খেলতে দেয়নি ভারত। সে বলেছে, আমরা সেই খেলাটা শ্রীলঙ্কায় খেলব। কোনো দল নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করলে অন্য জায়গায় গিয়ে খেলার ইতিহাস আছে। কিন্তু আইসিসি এই দাবি মানেনি।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী বন্ধুর সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে চাই। কিন্তু আল্লাহর কসম, কাউকে প্রভুর মতো আচরণ করতে দেব না। প্রভু আমাদের একজনই- আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো যায়নি দুটি কারণে- চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট। আমরা কঠোর হাতে চাঁদাবাজি উৎখাত করব এবং সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব। আজাদি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’। আমরা সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আহ্বান জানাব। দ্বিতীয়ত দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেব, কারণ এটি ইনসাফের প্রতীক। আমরা বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না। তাই আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের মা-বোনেরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। ইনসাফের ভিত্তিতে এই দেশ গঠন করা হবে। মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন মত আছে। ইনশাআল্লাহ, সবাইকে নিয়ে বসে দেশকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, ২০১৫ সালের এক রোজার ঈদে সাতক্ষীরা এসেছিলাম। প্রতিটি উপজেলা ঘুরে দেখেছি। পর্যটনের জন্য আসিনি। যে ৪৮ জন দেশপ্রেমিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের মা-বোনদের পাশে দাঁড়াতে এসেছিলাম। যে যুবতী বোনদের বিধবা করা হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং যে শিশুটির বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল তার চোখের পানি দেখতে এসেছিলাম। সেদিন মায়েদের ও বোনদের মুখে যে কষ্ট দেখেছিলাম, তা জীবনে ভুলতে পারব না। হারিয়ে যাওয়া আপনজনদের রক্তের ফোঁটা দেখেছি।
তিনি বলেন, শহীদ সন্তানদের মায়েরা বলেছিলেন, “আমার সন্তানের কী দোষ?” আমি বলেছিলাম, এর জবাব আল্লাহ দিয়েছেন। আপনার সন্তানের একমাত্র দোষ ছিল, সে আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিল। তখন মা বলেছিলেন, “সে অপরাধ তো আমিও করেছি।” আমি বললাম, সব কিছুর প্রতিদান আল্লাহর কাছে রয়েছে। আল্লাহই উত্তম ফয়সালাকারী। তখন তিনি বলেছিলেন, “এখন আমার কলিজার ভেতর শান্তি অনুভব করছি।”
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

#

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট

#

আসিফ মাহমুদের মধ্যরাতের ৩ শব্দের ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল

#

আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের: তারেক রহমান

#

সংসদকে যুক্তি ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

#

শপথ নিলেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

#

আগামীকাল বসছে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

#

জুলাই সনদের সম্মত অংশের সবই বিএনপি ধারণ করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

#

আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

#

স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল

Link copied