ককটেল প্রস্তুতের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আধা কিলোমিটার দূরে মিলল যুবকের লাশ
২০ ঘন্টা আগে শুক্রবার, জানুয়ারী ৯, ২০২৬
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণে একটি বসতঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সোহান বেপারী (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে একটি বসতঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরটির দেয়াল ও চালা সম্পূর্ণ উড়ে যায়। খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি ফসলি জমিতে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি ওই গ্রামের দেলোয়ার বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী। বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার বিলাসপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের জেরে এলাকায় একাধিকবার সহিংসতা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে।
নিহতের বোন মাজেদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় নাসির বেপারীর সঙ্গে তাঁর ভাই সোহান বেপারীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে সোহান বাড়িতে থাকতে পারতেন না এবং আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন সকালে তাঁর মরদেহ পাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, বিস্ফোরণে একটি ঘরের বেড়া ও চালা উড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের শরীরে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।