কুমিল্লা সিটি করপোরেশন তদন্ত কমিটিকে বর্তমান স্থানে নতুন নগর ভবন করার পক্ষে মত দিয়েছেন নগরবাসী
১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা ১৮৬৪ সালের ৩০ নভেম্বর যে স্থানে কুমিল্লা পৌরভবন স্থাপন করা হয়, সেখানেই আছে বর্তমান নগর ভবন। নতুন নগর ভবন এই স্থানেই করতে হবে। এর বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের কাছে নগরবাসী ওই মতামত দেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন মহলের বক্তব্য রেকর্ড করেন। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারী গুটি কয়েক ব্যক্তি ছাড়া সবাই বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে মতামত দেন।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অতীন্দ্র মোহন রায় সম্মেলন কক্ষে তদন্ত কমিটির ওই সভা হয়। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম তদন্ত কাজের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এতে তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান স্থানে নতুন ভবন চান বর্তমান প্রশাসক। নগরের দক্ষিণ এলাকার ছোট ধর্মপুরে চান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। দুইটি আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় আমাকে সরেজমিনে এসে তদন্ত কাজ করতে বলে। আমি ওই কারণে এসেছি। আপনারা মতামত দিন।
এ সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূঁঞা। সভায় উপস্থিত নাগরিকদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা কে হাজির করা হয়।
বর্তমান স্থানে নতুন নগর ভবন নির্মাণ নিয়ে মতামত দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক ( সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল, আবুল হাসনাত বাবুল, মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, আমার শহর পত্রিকার সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ, কুমিল্লা নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দুইবার নির্বাচন করা প্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শওকত আলী বকুল, কুমিল্লা মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রায়হান রহমান হেলেন, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক রূপালী, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাহিদুজ্জামান রানা প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ারুল হক, যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব , মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান, যুবদল নেতা রনি। বিএনপির নেতা আতাউর রহমান ছুট্রি, রেজাউল হক আঁখি, ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান গোলদার, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল।
ছোট ধর্মপুর এলাকায় নগর ভবন স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আখতার হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, মো. শাহ আলম মজুমদার ও কাজী মাহবুবুর রহমান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আপনাদের সবার বক্তব্য সংরক্ষণ করেছি। লিপিবদ্ধ করেছি। লিখিত নিয়েছি। আপনাদের মতামত আমি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
এরপর তিনি ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কের অদূরে ছোট ধর্মপুর এলাকায় আঞ্চলিক নগর ভবন দেখতে যান। সেখানেই মনিরুল হক চৌধুরী নতুন নগর ভবন নির্মাণ করতে চান। আর পুরাতন স্থানে অর্থাৎ বর্তমান স্থানে চান প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে দুই নেতা পাল্টাপাল্টি চিঠি দেন। এরই প্রেক্ষিতে এই জরুরি তদন্ত কাজ হয়।
এদিকে মনিরুল হক চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমানে দরপত্র কার্যক্রম অর্থাৎ টেন্ডার সিডিউল বিক্রি ও জমা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। সভায় বক্তারা দ্রæত টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু করার দাবি উপস্থাপন করেন।