দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই
১ ঘন্টা আগে সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬
কুড়িগ্রামের
উলিপুরে ধানক্ষেতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা ফুটিয়ে তুলে আবারও আলোচনায় এসেছেন এক স্কুলশিক্ষক।
উলিপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে, উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাফর সাদিক উপজেলার পুব নাওডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।
চলতি
বোরো মৌসুমে তিনি নিজস্ব প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করছেন। এর মধ্যে
ব্রি ধান-১১৩ ব্যবহার করে বেগুনি রঙের ধানের চারা লাগিয়ে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের আকৃতি
ফুটিয়ে তুলেছেন। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যায় এই নকশা, যা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
আগেও
জাফর সাদিক ধানক্ষেতে জাতীয় ফুল, জাতীয় পতাকা এবং বাংলাদেশের মানচিত্রের নকশা তৈরি
করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষির প্রতি তার রয়েছে গভীর অনুরাগ। নিয়মিত
পাঠদানের পাশাপাশি তিনি নিজেই জমিতে চাষাবাদ করেন এবং সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে দেশপ্রেম
তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়রা
তার এ উদ্যোগকে অনুপ্রেরণাদায়ক মনে করছেন। এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিব হাসান, শরিফ উদ্দিন
ও আমিনুল ইসলাম বলেন, দূর থেকে এখানে দেখতে এসেছি। ধানখেতে এমন নকশা দেখে খুব ভালো
লাগছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে কৃষিকাজে এমন সৃজনশীলতা দেখানো সত্যিই
অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি আমাদের এলাকার গর্ব।
জাফর
সাদিক বলেন, শিক্ষকতা আমার পেশা, কৃষি আমার নেশা, আর দেশপ্রেম আমার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস
থেকেই কৃষি ক্ষেত্রকে দেশপ্রেম জাগানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছি। বিদ্যালয়ে
আমি বইয়ের মাধ্যমে ইতিহাস শেখাই, আর মাঠে মাটির মাধ্যমে সেই ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা
করি।
উলিপুর-রাজারহাট
সড়কের পাশে অবস্থিত তার এই ধানক্ষেত প্রতিদিন শত শত মানুষের নজর কাড়ছে। অনেক পথচারী
থেমে ছবি তুলছেন এবং স্বাধীনতার রক্তঝরা ইতিহাস স্মরণ করছেন। জাফর সাদিক বলেন, মানুষের
আগ্রহই আমার কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।