বিএনপিতে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৯টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
২ ঘন্টা আগে শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাষানী খানের বাড়িসহ মোট নয়টি বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এই হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার অনুসারীরা। হামলার সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি তিনটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাষানী খান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। হামলার শিকার হওয়া বাড়িগুলোর বেশিরভাগই তার অনুসারীদের বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাতের বেলায় প্রথমে ভাষানী খানের নিজ বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে তারা দলবদ্ধ হয়ে তার সমর্থকদের আরও আটটি বাড়িতে হামলা করে। এসব ঘটনার মধ্যে তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ভাষানী খান বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি এর আগের দিন স্ত্রীসহ সন্তানদের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান।
ভাষানীর শাশুড়ি রাশিদা বেগম জানান, ঘটনার রাতে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎ ককটেলের বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপর ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি জোর করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। তবে কারা বা কী কারণে এই হামলা করেছে, তা তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন হলেন ভাষানীর সমর্থক ইদ্রিস খান। তার বসতঘরসহ ঘরের আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইদ্রিস খানের দাবি, চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং কয়েক দিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, দোষীদের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য।
এ বিষয়ে চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসূল জানান, শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়িসহ মোট নয়টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তিনটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।