যেকোনও মুহূর্তে হ্রদের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে, নেপালকে সতর্ক করল চীন
৪৮ মিনিট আগে শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
নেপাল
ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নতুন বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালের
লহেন্দে নদীর উজানে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী হ্রদ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক
করেছে চীন। হ্রদের পানির রং ক্রমেই গাঢ় হয়ে আসাকে সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ
করেছে দেশটি।
নেপালের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক বার্তায় চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দিন
আগে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর হ্রদটি তৈরি হয়। শুক্রবার পর্যন্ত এতে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার
পানি জমা হয়েছে। পানির উচ্চতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
চীনের
বার্তায় বলা হয়েছে, ‘গত পরশুদিন তৈরি হওয়া হ্রদের পানির রং ক্রমাগত গাঢ় হচ্ছে। এর অর্থ,
হ্রদটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।’
তবে
হ্রদটি ভেঙে গেলেও পানির প্রবাহ খুব বেশি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে চীন। দেশটির
হিসাব অনুযায়ী, বাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে নদীতে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার
পানি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম
বলে মনে করছে চীন।
উজানের
অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেলে ভাটির এলাকার নদীর পানি বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় নদীর তীরবর্তী
বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
হিমবাহ
ধসে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের কারণে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে ওই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। চীনের
অংশে চোচেন নদী এবং নেপালের অংশে পুরেপু নদীর মিলনস্থলের কাছে হ্রদটি তৈরি হয়েছে বলে
জানিয়েছে চীন।
চীনের
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হ্রদটির পানির স্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। এরই মধ্যে এতে
প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে
পারে বলেও এর আগে সতর্ক করেছিল চীন।
হ্রদটি
ভেঙে গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কতটা হতে পারে, তা জানতে বন্যার পানির প্রবাহ নিয়ে মডেলিংও
করেছে চীন। দেশটির হিসাব অনুযায়ী, বাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে নদীব্যবস্থায় সর্বোচ্চ
৫০০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ডে পানি প্রবাহিত হতে পারে। তবে পানি নদীর তীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
থাকবে বলে চীনের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হ্রদটির
পরিস্থিতি ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার হ্রদটি উপচে লহেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে পানি পড়তে শুরু করে। তবে দুপুর
নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম
সিসিটিভি।
এর
মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ বেড়েছে নেপালে। বুধবারের আকস্মিক বন্যায় দেশটির
বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে নেপালে অন্তত ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিব্বতে মারা গেছেন অন্তত সাতজন। বন্যার পর উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন করে হ্রদ ভেঙে
পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।