রিটের রায়ের প্রেক্ষিতে চবিতে পোষ্য কোটায় ভর্তি
১ ঘন্টা আগে শনিবার, মে ৯, ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে পোষ্য (ওয়ার্ড) কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা প্রকাশিত মেধাতালিকায় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট পোষ্য কোটা বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
যদিও শিক্ষার্থীদের ক্লাস ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তবুও পোষ্য কোটায় কতটি আসনে ভর্তি নেওয়া হয়েছে, আবেদন ও যাচাই-বাছাই কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এসব বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ও মেধাতালিকাতেও এ বিষয়ে আলাদা কোনো তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি।
এর আগে, পোষ্য কোটা বহাল রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজি ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শশাংঙ্খ শেখর সরকার ও বিচারপতি উম্মে রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত পূর্বে জারিকৃত রুল যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। রুলে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সন্তান ও স্বামী/স্ত্রীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ওয়ার্ড কোটা বহাল রাখা যৌক্তিক এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, “যুগ যুগ ধরে যেভাবে পোষ্য কোটা চালু ছিল, আদালতের রায় অনুযায়ী তা সেভাবেই বাস্তবায়ন করতে হবে।” একই সঙ্গে ৩১ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানানো হয়। চিঠিতে পূর্বের মতো ১৬৬টি আসন বহাল রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে বাস্তবে কতজন শিক্ষার্থী এ কোটায় ভর্তি হয়েছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই পোষ্য কোটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আদালত ১৬৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তির কথা উল্লেখ করলেও, গত বছরের মতো এবারও ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে এ কোটায় ভর্তি নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতজন ভর্তি হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।”
চবি প্রতিনিধি