অগ্রণী ব্যাংকের ৪৩ কোটি টাকা গায়েব, পলাতক কর্মকর্তা
১ ঘন্টা আগে বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
নীলফামারীর
সৈয়দপুরের শহীদ তুলশিরাম সড়কে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখার ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি
টাকা গায়েব হয়ে গেছে। গত দুই বছর ধরে টাকাগুলো সরানো হয়েছে। যা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে
ব্যাংকটির ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি
পলাতক।
ব্যাংকটির
আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা চলাকালে জালজালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থআত্মসাতের বিষয়টি উদঘাটিত
হয়। ওই তদন্ত পরিচালনা করেন ব্যাংকটির হেড অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী
রহমান।
তিনি
নিরীক্ষা দলের প্রধান। সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল
অফিসার (এসপিও) আনোয়ারুজ্জামান, এসপিও খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার
কাজী মো. সোলায়মান হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার দেবাশীষ মল্লিক, প্রিন্সিপাল অফিসার মো.
ইকবাল কবীর ও প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম ফজলুল করিম। তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি
রংপুরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন
থেকে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা থেকে ৪৩ কোটি সরানো
হয়। এর মধ্যে ১৫ কোটি সরানো হয়েছিল ব্যাংকটির
রংপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে। ওই শাখার ব্যবস্থাপক
আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।
তবে
ওই ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ বলেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল
রাজি তমালের কাছে আমি ৪৫ লাখ টাকা পেতাম। ওই টাকা তিনি পরিশোধ করেছেন। টাকা আত্মসাতের
বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন,
বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।
নিরীক্ষা
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল ব্যাংকের কয়েকজন
সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এসব টাকা
আত্মসাৎ করেন। যা চলছিল ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রতিবেদনের
সূত্র ধরে ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচরীর সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ
না করর শর্তে তারা বলেন, এ ঘটনায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল একা দায়ী নন।
তার সঙ্গে অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।
অগ্রণী
ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণে
এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা টাকা অপসারণের ঘটনায় কে তার নজরে আসেনি বলে
এড়িয়ে যান।