অর্ধশত পরিবার ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে

Bortoman Protidin

৬ দিন আগে বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬


#

চলনবিল এলাকার কয়েকটি গ্রামে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের সন্ধান মিলেছে, যাদের একমাত্র জীবিকার বাহক ঘোড়ার গাড়ি। কালক্রমে এ এলাকায় ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে। তবে, এখনো কিছু মানুষ শখের বশে ঘোড়া পালন করেন। আবার কিছু মানুষ জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঘোড়া পালন করেন। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়েই পরিবারের ব্যয়ভার মেটাচ্ছেন প্রায় অর্ধশত পরিবার। 

উপজেলার লাঙ্গলমোড়া গ্রামের কালু মণ্ডল জানান, তিন বছর আগে সত্তর হাজার টাকায় ঘোড়া এবং ঘোড়ার গাড়িটি কেনেন তিনি। সেই থেকে এই ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়িই তার পরিবারের জীবন-জীবিকার উৎস। মাঘ-ফাল্গুন মাসে কৃষকের জমি থেকে সরিষা বহনের কাজ করেন। চৈত্র-বৈশাখ মাসে রসুন, গম, খেশারি, মশুর, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল বহন করেন। জৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে বোরো ধান এবং কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে বিল থেকে আমন ধান বহনের কাজ করেন। বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ করেন। যখন এলাকায় কাজ থাকে না তখন ঘোড়া গাড়ি নিয়ে চলে যান অন্য জেলায়।

ছাইকোলা ফকিরপাড়া গ্রামের শাহজাহান প্রামাণিকের ছেলে রিফিল হোসেন জানান, আট বছর ধরে ঘোড়ার গাড়িতে ভর বহন করে আসছেন তিনি। এ কাজ করে স্ত্রী ও এক মেয়েসহ তার তিনজনের পরিবারটি চালিয়ে আসছেন তিনি। জমাজমি নেই। কাজ পেলে প্রতিদিন গড়ে হাজার খানেক টাকা পান। ছোলা, ধানের গুঁড়াসহ ঘোড়ার অন্যান্য খাবারের পেছনে ব্যয় করতে হয় প্রায় দুইশ টাকা। ফসলের মৌসুমে প্রতিদিন আটশ টাকার মতো উপার্জন থাকে তার।

চরনবীন গ্রামের ইবাদ আলী মোল্লা জানান, কয়েক বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। ছেলে কৃষকের কাজ করে কিছু উপার্জন করে। এলাকায় কাজ না থাকলে বগুড়া, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে ভর বহনের কাজ করেন। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে সাতজনের পরিবারের ব্যয়ভার বহন করছেন তিনি। তিনি আরও জানান, চাটমোহরের বরদানগর গ্রামে ঘোড়ার গাড়ির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উপজেলার প্রায় ত্রিশজন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এ ব্যাপারে চাটমোহর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জানান, এক সময় চাটমোহরের অনেকেই ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অনেক শৌখিন মানুষ ঘোড়া পালন করতেন। ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতেন। ঘোড়দৌড়ে অংশ নিতেন। এলাকার মানুষ ঘোড়দৌড় উপভোগ করত। এ ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৪ হাজার খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে দ্রুত গতির চতুষ্পদ প্রাণী ঘোড়াকে পোষ মানিয়ে মানুষ গৃহে পালন শুরু করেন। এ প্রাণী তার প্রভুকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম। এক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে ঘোড়ার ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে। ঘোড়দৌড় মানুষের মনোরঞ্জনে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।


global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

কৃষিমন্ত্রী হাজী ইয়াসিনের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

#

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের ছবি প্রকাশ

#

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

#

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

#

২০২৫ সালের তুলনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

#

দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

#

বিএনপির হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

#

গুমের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি

#

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক

#

ইউএনডিপি দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Link copied