নবজাতককে ছুড়ে ফেলে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা মুদি দোকানির
৩৭ মিনিট আগে সোমবার, মে ১৮, ২০২৬
নেত্রকোনার
কেন্দুয়ায় আশ্রয় দেওয়ার নামে সদ্য তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে (২৪) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
উঠেছে। এ সময় এক মাস বয়সী নবজাতক শিশুকে ছুড়ে ফেলে দেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ।
সোমবার
(১৮ মে) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আব্দুর রউফ মিয়া (৬০) মদন উপজেলার বাসিন্দা
এবং পেশায় একজন মুদি দোকানদার।
ভুক্তভোগী
নারী আনোয়ারার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নূরনগর গ্রামে। প্রায় এক বছর আগে
নেত্রকোনার মদন উপজেলার রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে এক মাস
৭ দিন বয়সী একটি নবজাতক শিশু রয়েছে।
তবে
যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৫ মে স্বামী রিপন মিয়া আনোয়ালাকে একতরফা ডিভোর্স
(তালাক) দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
স্বামীর
ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে রোববার বিকেলে ভুক্তভোগী তার শিশুকে কোলে নিয়ে বাপের বাড়ি সিরাজগঞ্জের
উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া কৈজানী নদী
পার হয়ে ঘাটে পৌঁছান তিনি। সেখানে ঘাট সংলগ্ন মুদি দোকানদার আব্দুর রউফের দোকানে গাড়ির
জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
পরেসন্ধ্যা
৭টার দিকে রউফ মিয়া রাতে তার বাড়িতে থেকে পরদিন সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন ভুক্তভোগীকে।
নারী রউফের সঙ্গে রওনা হন। কিন্তু পথে গিয়ালী খালের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে রউফ তাকে
‘কুপ্রস্তাব’ দেয়।
আনোয়ারা
এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রউফ ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে নির্মমভাবে মাটিতে ছুড়ে ফেলে
দেয়। এরপর দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ধস্তাধস্তির
একপর্যায়ে আনোয়ারা কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। তিনি সেখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে
চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে চিৎকার করে স্থানীয়দের বিস্তারিত জানান। স্থানীয়রা
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেয়।
প্রায়
২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজিপ পর একটি পাটক্ষেত থেকে ওই নবজাতক শিশুটিকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায়
উদ্ধার করা হয়।
খবর
পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ দ্রুত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে ছুটে
যান। তিনি ভুক্তভোগী মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশ কেন্দুয়া
ও মদন থানা পুলিশ যৌথ অভিযান নামেন এবং সোমবার (১৮ মে) সকালে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মিয়াকে
গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মদন
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী
হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর
রউফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুর শারীরিক অবস্থা
স্বাভাবিক রয়েছে।