নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা ঠেকাতে ঐক্যের ডাক তারেক রহমানের
১ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৯, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা কৌশলে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক বৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার কৃষকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তার বক্তব্যে তিনি স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বাস্তবায়িত বড় সেচ প্রকল্পগুলোর কথা, যা একসময় উত্তরবঙ্গের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পদ্মা নদীকেন্দ্রিক যে সেচ প্রকল্পের জন্য আলাদা করে প্রায় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, তা গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে অচল করে রাখা হয়েছে। বিএনপির লক্ষ্য হবে এই ঐতিহ্যবাহী প্রকল্পকে আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।
উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সেচ সুবিধা শুধু রাজশাহীতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষকেরা এর আওতায় আসবেন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, আর কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে দেশের অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের আমচাষিদের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই এলাকায় ফল সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর চাষিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। বিএনপি সরকার গঠন করলে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক গুদাম নির্মাণ করা হবে, যাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয় এবং নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়নে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নারীরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবে এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমানের অংশগ্রহণ (সরাসরি বা ভার্চুয়াল উপস্থিতি) দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিত কর্মীদের নির্দেশ দেন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের এই বার্তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। তার ভাষায়, ধানের শীষ কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষকের ভবিষ্যৎ বদলের প্রতীক।
এই সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়, যার ফলে পুরো মহানগরীতে দীর্ঘ সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।