বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ, অথচ মৃত্যুর মিছিলে শীর্ষে

Bortoman Protidin

১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬


#

ফিফা বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত বাংলাদেশ। ফিফার সর্বশেষ র‍্যাংকিং অনুযায়ী বিশ্বের ২১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। অথচ ফুটবল মাঠে নিজেদের এই অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের বিপরীতে বৈশ্বিক এই আসরকে কেন্দ্র করে অন্ধ উন্মাদনা ও মৃত্যুর মিছিলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ২০ জন ভক্তের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশি।

বিশ্বকাপের মূল স্টেডিয়ামগুলোর ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হলেও মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত ভিড়, পাড়া-মহল্লায় সমর্থকদের মধ্যে উগ্র সংঘর্ষ, পতাকা ওড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা এবং খেলা দেখার তীব্র উত্তেজনার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কুমিল্লার একটি ঘটনায় লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে মন্তব্যের জেরে শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্রাজিল সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি মূলত মিশরের পক্ষে সমর্থন দিলেও এই তুচ্ছ কারণে তাকে প্রাণ দিতে হয়।

এই অকালমৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং খেলা দেখার ক্ষোভে আত্মহত্যার মতো ঘটনা। গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকার বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২২ বিশ্বকাপ চলাকালেও বাংলাদেশে ২৩ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক সীমানার বাইরে সুদূর কোনো দেশের জয়-পরাজয়কে তীব্র ব্যক্তিগত আবেগ ও অন্ধ উন্মাদনায় রূপ দেওয়ার ফলেই এই ট্র্যাজেডি ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং ও ট্রল এই উগ্রতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

সহিংসতা ও মৃত্যুর এই হিড়িক কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নেই। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনেও খেলা দেখার উত্তেজনা ও ভিড়ের চাপে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশের তরুণ সমাজকে ফুটবল কেন্দ্রিক এই আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে ফেরাতে না পারলে আগামী দিনগুলোতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied